নারায়ণগঞ্জে প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহক হয়রানি বন্ধ, বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম’। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে শহরের কিল্লারপুল এলাকায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশ শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিভিন্ন এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ, মসজিদ কমিটির প্রতিনিধি এবং শত শত ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহক অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রিপেইড মিটারের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। প্রতি মাসে মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জ বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই বাড়তি খরচ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য একটি অসহনীয় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এই প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের জন্য ‘যন্ত্রণার ফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোল্টেজ ওঠা-নামা কিংবা সামান্য লোডশেডিংয়ের কারণে প্রায়ই মিটার ‘লক’ হয়ে যায়। কার্ড রিচার্জ করতে গেলে অধিকাংশ সময় সার্ভার ডাউন থাকে, ফলে গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা ঘটে যখন মাঝরাতে ব্যালেন্স শেষ হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জরুরি মুহূর্তে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, “আধুনিকায়নের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা চলবে না। এই হয়রানি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। যদি দ্রুত প্রিপেইড মিটারের এই অনিয়ম বন্ধ ও গ্রাহক স্বার্থ রক্ষা করা না হয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, শ্রমিক নেতা মাহমুদ হোসেন, আলহাজ্ব নুরুল হুদা, প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম জাগু, মো. শওকত আলী, সেলিম রেজা, হাজী রুহুল আমিন, মো. হুমায়ুন হাজী, আব্দুস সালাম, মো. জাহাঙ্গীর, মো. রফিকুল ইসলাম, ইয়াকুব আলী খান এবং এস এম সাজিদ আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন যে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে তারা রাজপথে আরও বড় ধরনের গণআন্দোলন গড়ে তুলবেন।