ফ্যাসিস্টবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নানামুখী চাপ এবং থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন বেশ কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী।
আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে আহত ও অবহেলার শিকার হয়েছেন একাত্তর বাংলা অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক আল আমিন, টুডে টাইমসের সম্পাদক তানজিমুল হাসান মায়াজ, বাংলার চোখের সাইফুল ইসলাম এবং বাংলার চোখ ও বাংলা বাজার পত্রিকার ইউসুফ আলী প্রধান।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইয়াদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সবুজ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের মোবাশ্বর শ্রাবনসহ আরও অনেকেই সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে রণক্ষেত্রে গুরুতর আহত হন। কিন্তু আজ দুই বছর পরেও তাদের এই ত্যাগের কোনো মূল্যায়ন কিংবা খোঁজখবর নেওয়ার মানসিকতা দেখায়নি কোনো পক্ষ।
সেই রক্তঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে টুডে টাইমসের সম্পাদক তানজিমুল হাসান মায়াজ গভীর ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন ”সেদিন চারদিকে শুধু বুলেটের শব্দ, টিয়ারশেল আর মানুষের আর্তনাদ ছিল। পেশাগত দায়িত্ব আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠ ছাড়িনি। সত্যটা মানুষের সামনে তুলে ধরতে গিয়ে আমরা নিজেরা রক্তাক্ত হয়েছি, পঙ্গুত্বের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু আজ দুই বছর পর এসে খুব কষ্ট হয় যখন দেখি—যে বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ছাত্র-জনতার সাথে আমরাও রক্ত দিলাম, সেই নতুন বাংলাদেশে আজ আমাদের কেউ একটা ফোন দিয়েও খোঁজ নেয়নি। আমরা কোনো আর্থিক অনুকম্পা চাই না, কিন্তু মাঠের সাংবাদিকদের এই চরম অবহেলা ও বিস্মৃতি সত্যিই বেদনার।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যেকোনো আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা থাকে অনস্বীকার্য। অথচ জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তিতে যখন নানা আয়োজন হচ্ছে, তখন মাঠের লড়াকু এই সাংবাদিকদের পাশে না দাঁড়ানো রাষ্ট্র ও সমাজের এক বড় ব্যর্থতা। আহত সাংবাদিকরা আজও সেই ভয়াল দিনের ক্ষত শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু তাদের কপালে জুটেছে কেবলই চরম অবহেলা।