দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে, যার একটি গড়ে উঠবে নারায়ণগঞ্জে। একইসঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর ওসমানী স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ ফুটবল একাডেমির আয়োজনে ‘বেগম খালেদা জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অতীতে খালি জায়গায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা থাকলেও বর্তমান সরকার মাঠ রক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠের জন্য ৮ বিঘা করে জমি চেয়ে ৩০০ জন সংসদ সদস্যকে চিঠি দিয়েছি। ইতিমধ্যে সংসদ সদস্য, ইউএনও এবং জেলা প্রশাসকরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। আশা করছি, আগামী পাঁচ বছর পর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ থাকবে।”
নারায়ণগঞ্জের ক্রীড়া অবকাঠামো নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর একটি হবে নারায়ণগঞ্জে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলাতেই একটি করে স্পোর্টস ভিলেজ করা হবে।” এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন।
সাঁতার শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, ২২টি জেলায় বিদ্যমান সুইমিংপুলগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি জেলায় একটি করে আধুনিক সুইমিংপুল নির্মাণ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের মাঠে ফেরাতে বড় ধরণের পরিবর্তনের কথা জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রমে নতুন ২০টি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট যুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষাক্রম এমনভাবে সাজানো হবে যেন পরীক্ষার ৬০ শতাংশ নম্বর খেলার মাঠের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে। এতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নম্বরের প্রয়োজনে হলেও মাঠে পাঠাতে উৎসাহিত হবেন।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজিব, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। এ সময় স্টেডিয়ামে উপস্থিত ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।