সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার।
অনুষ্ঠানে এনায়েতনগর ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার মঈনউদ্দিন বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মোমিন। তিনি বলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনগণের সম্পদ লুটপাটকারীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে জনতা।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল জব্বার বিগত স্বৈরাচারী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বিগত শাসকরা জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যয় না করে নিজেদের আখের গোছাতে এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করেছে। তাদের এই দুর্নীতি, দুঃশাসন ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণেই ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে রাজপথে নেমে আসে।” তিনি আরও বলেন, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ এমনভাবে ফুঁসে উঠেছিল যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে ভালো না বেসে বা নেতাদের শ্রদ্ধা না করে, উল্টো তাদের দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল। কেমন নেতা চায় দেশের মানুষ? ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত নেতা বলেন, “আমাদের নেতা হবেন তারা, যারা ভোগ-বিলাসে মত্ত হবেন না।
জনগণের আমানত যাদের কাছে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং যারা জনগণের প্রভু বা শাসক না হয়ে, সেবক হিসেবে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবেন। নিঃস্বার্থভাবে জনগণের জন্য কাজ করা ব্যক্তিদেরই দেশের মানুষ এখন নেতা হিসেবে দেখতে চায় এবং এই প্রত্যাশা নিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।”
’মলম বিক্রেতাদের’ মতো নতুন প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, “যারা জুলাই আন্দোলনের সময় নিজেদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে দেশ-বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিল, তারা আজ আবার ফিরে এসে ‘মলম বিক্রেতা’ বা ক্যানভাসারদের মতো চমকপ্রদ কথা বলে দেশের মানুষের সামনে নিজেদের জাহির করার চেষ্টা করছে। এরা মূলত আবারও জাতির সাথে নতুন করে প্রতারণা শুরু করেছে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি আমরা সত্যিকার অর্থে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করতে চাই এবং দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের রাস্তা চিরতরে বন্ধ করতে চাই, তবে এই গণবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অতীতের ভুল ও প্রতারণার রাজনীতি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা ইউনুছ মিয়ার আন্তরিক সহযোগিতায় আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময় চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের অনুষ্ঠানে স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের মাঝে পরিচয় করিয়ে দেন।