নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ‘প্রিন্সিপাল ১০০ শপিং মল’ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চুরির ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
‘মোবাইলি বাই আমিনুল টেলিকম’ নামক দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দোকানের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৪৪টি দামি স্মার্টফোন ও ড্রয়ারে থাকা নগদ ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় দোকানের মালিক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি রুজু হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) তারেক আল মেহেদী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) দীপংকর ঘোষের তদারকিতে অভিযানে নামে পুলিশ। সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় কাঁচপুর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করে।
১. মোঃ বাবু ওরফে রবি (৪০), ২. মোঃ ইছহাক ওরফে সাগর (৪২), ৩. মোঃ কামাল (৪০), ৪. মোঃ আলমগীর (৪৫), ৫. মোঃ জামাল (৩৮), ৬. আলাউদ্দিন (৪৫), ৭. মোঃ সুমন (৪১), ৮. মোঃ রুবেল (২৩) এবং ৯. আলামিন ওরফে বাম্বু আলামিন (২৩)। গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশের বাড়ি কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে ১নং আসামি বাবুর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ৮টি এবং ২নং আসামি ইছহাকের বিরুদ্ধে ৩টি চুরির মামলা রয়েছে। এছাড়াও আলমগীর ও আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় চুরির মামলা রয়েছে।
সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হলে বিজ্ঞ আদালত প্রত্যেকের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে থাকা আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন ও অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পেশাদার এই চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধী দমনে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।