রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় দীর্ঘ কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মো. চাঁন মিয়া। নারায়ণগঞ্জ বন্দর আমিন আবাসিক এলাকার আল আমিন জামে মসজিদের সভাপতি চাঁন মিয়া বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দ্রুতই তিনি সুস্থ হয়ে নিজ বাসভবনে ফিরবেন বলে পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে। কারামুক্তিতে মহান আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, আলহাজ্ব মো. চাঁন মিয়া সারাজীবন নিজেকে সমাজসেবায় নিয়োজিত রেখেছেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না এবং কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবিও তাঁর নেই। একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল, সবার সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সমাজের উন্নয়ন কাজের খাতিরে তাঁর সাথে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের ছবি থাকতে পারে, যা কোনোভাবেই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে না। বিশেষ করে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন প্রার্থীর প্রচারণার সময়কার কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁন মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে বন্দর কবরস্থান রোড ও আমিন আবাসিক এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বন্দর বিএম ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সভাপতি ও দাতা সদস্য এবং বন্দর প্রেসক্লাবের দাতা সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত।
গত ২২ জুন রাত ৮টায় তাঁর নিজ বাসভবন থেকে বন্দর থানা পুলিশ তাঁকে আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, কারো অনৈতিক চাহিদা পূরণে অপরাগতা প্রকাশ করায় অদৃশ্য প্রভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি আটকের মুহূর্তেই এআই (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকের একটি পেজ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একটি মামলায় (নং-৩(৯)২৪) সন্দিগ্ধ হিসেবে তাঁকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, একজন নির্দোষ সমাজসেবককে এমন হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের উচিত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং সামাজিক ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষা করা।