জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। আজ বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, ফতুল্লা থানার সদস্য সচিব এসএম কাদির, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জেলা আহ্বায়ক প্রদীপ সরকার।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ৪ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সেখানে এই ধরনের আয়োজন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশবাসীর অনুভূতির প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের শামিল। অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ও বিরোধী দলীয় নেতার উপস্থিতিতে মার্কিন স্তুতি গাওয়ার ঘটনায় নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বক্তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের নেতিবাচক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন আমাদের ওপর চালানো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যাকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে এড়িয়ে গিয়েছিল। তারা গোপনে পাকিস্তানকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে এবং বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। এ দেশের মানুষ আজও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই ঘৃণ্য ভূমিকা ভুলে যায়নি।”
নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে সামরিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। তারা ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গণহত্যার প্রত্যক্ষ মদদদাতা। ইরাক ও ভেনেজুয়েলায় তাদের হস্তক্ষেপ এবং কিউবার ওপর দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের কারণে অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বাসদ নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির’ কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস ছেড়ে জাতীয় সংসদের পবিত্র চত্বরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান করার স্পর্ধা পেয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ও হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবি জানানো হয়।
—