নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউছুফ খান টিপু বলেছেন, “বিগত ১৬ বছর যারা দেশের জনগণকে জিম্মি করে রেখেছিল, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল এবং বাকস্বাধীনতা হরণ করেছিল, সেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আজ রাজপথ থেকে বিতাড়িত। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে দিল্লিতে বসে এখন দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। কিন্তু রাজপথ এখন জনগণের দখলে, এখানে আর কোনো ফ্যাসিস্টের জায়গা হবে না।”
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বন্দর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট টিপু তাঁর বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশনায়ক তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। গত ৪ মাসে তাঁর নেতৃত্বে দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। অথচ পরাজিত শক্তি বিদেশে বসে এখনো দেশের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।”
তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজপথে থাকার হিম্মত নেই। তারা তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিলেও তাদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর রাজপথে রক্ত দিয়েছি, জেল খেটেছি। রাজপথ আমাদের দখলে ছিল এবং ইনশাআল্লাহ তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনেও রাজপথ আমাদের দখলেই থাকবে।”
তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে মহানগর বিএনপির এই নেতা বলেন, “আপনারা পাড়ায়-মহল্লায়, প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সজাগ থাকবেন। যদি কোনো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের লোক রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তাদের প্রতিরোধ করে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করুন। আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত আপনাদের কঠোরভাবে রাস্তা পাহারা দিতে হবে এবং এরপরও সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপ্রেরণাকে পাথেয় করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ২০ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটাবো। কোনো ফ্যাসিস্টের কাছে মাথা নত করার দিন শেষ হয়ে গেছে।”
বিক্ষোভ মিছিলে বন্দর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলটি বন্দরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নেতাকর্মীদের গগনবিদারি স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা রাজপথ পাহারা দেওয়ার এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার দৃঢ় শপথ গ্রহণ করেন।