নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নাশকতার যে পাঁয়তারা চলছে, তাতে নারায়ণগঞ্জবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি নেতাকর্মী রাজপথে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেছেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা আজ রাজপথে নেমেছি সাধারণ মানুষকে এই নিশ্চয়তা দিতে যে—আপনাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি নেতাকর্মী আপনাদের পাশে আছে।”
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলটির সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিষয়। প্রশাসন তার নিজস্ব নিয়মে কাজ করবে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আইন সবার জন্য সমান এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে—এই ব্যবস্থাটি পুনপ্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
বিগত সরকারের আমলের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমতায় বা দায়িত্বে আছি বলেই যা খুশি তা করব—এমন ‘মাইন্ডসেট’ পরিবর্তনের সময় এসেছে। আমরা সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আইনের দৃষ্টিতে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে এবং সেই অনুযায়ী সরকার কাজ করবে।”
রাজীব আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জের মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল, সেটি দূর করাই আমাদের আজকের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো যেকোনো দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি রুখে দেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। আমরা প্রত্যাশা করি, তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। আর জাতীয়তাবাদী দল হিসেবে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরণের সহায়তা করতে প্রস্তুত।”
বক্তব্যের শেষে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকারে কারো বক্তব্য থাকতে পারে, কিন্তু বাক-স্বাধীনতার নাম করে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। মানুষের শান্তি সুনিশ্চিত করতেই আমাদের এই রাজপথের অবস্থান।”
বিক্ষোভ মিছিলে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী স্লোগান দেয়। সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে রাজীব নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।