কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে ফতুল্লা জেলা পরিষদ সংলগ্ন ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, “আমরা আজ সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছি। মাত্র তিন মাস আগে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং বিএনপি সরকার গঠন করেছে। জনগণের রায়ের ভিত্তিতে সরকার গঠনের পর থেকেই একটি নিষিদ্ধ সংগঠন নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে আইন পাস করে সংগঠনটিকে (আওয়ামী লীগ) নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও তারা চোরাগোপ্তা হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। আমরা ত্যাগের ও আদর্শের রাজনীতি করি। বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হলেও কেউ মাঠ ছেড়ে যায়নি। আজ যখন দেশ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে, তখন কোনো ষড়যন্ত্রকারীকেই রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বারী ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ও জেলা তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছে এবং বিএনপি রাজপথে থেকে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে পাহারা দেবে। আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নারায়ণগঞ্জের মাটিতে হবে না।
বিক্ষোভ মিছিলে ফতুল্লা থানা ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকশ নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি ডিআইটি ও জেলা পরিষদের আশপাশের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল থেকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেওয়া হয়।