গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরূপণ ও স্বীকৃতিসহ নারী অধিকার সংশ্লিষ্ট একাধিক দাবিতে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১১টা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পেশ করেন সংগঠনের জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে আসন্ন বাজেটে নারীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে ডে কেয়ার সেন্টার, কর্মজীবী নারী হোস্টেল নির্মাণ, মা ও শিশু হাসপাতাল স্থাপন এবং নিরাপদ গণপরিবহন ও স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জোরালো দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক **সুলতানা আক্তার**-এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, “নারীকে কেবল ঘরবন্দি বা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীদের গৃহস্থালি কাজের অবদান অনস্বীকার্য, অথচ বাজেটে এর কোনো আর্থিক মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি নেই। এই বিশাল শ্রমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হতো।”
নারী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন মহামারির রূপ ধারণ করেছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা ও অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে ১০০টি ধর্ষণ মামলার মধ্যে ৯৭টিরই কোনো বিচার হয় না। পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার দাপট ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিই নারীর নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে নারীর কাজের মূল্যায়ন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
এ সময় নেতৃবৃন্দ আসন্ন বাজেটে নারীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান এবং সারাদেশে নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
স্মারকলিপি প্রদানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন— সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুন্নাহার, দপ্তর সম্পাদক খাইরুন্নাহার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুইটি বেগম, জেলা সদস্য মোর্শেদা আক্তার এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলার সাবেক সভাপতি মুন্নী সরদার।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন।