সরকারি তোলারাম কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের নামে কলেজের তহবিল তছরুপ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানকে ছাত্রদলের ‘রাজনৈতিক সম্মেলনে’ রূপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব ফারদিন ইসলাম।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নবীন বরণের নামে কলেজের তহবিল থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সরকারি তোলারাম কলেজে বিএনপির রাজনৈতিক মহড়া সাজানো হচ্ছে। নবীন বরণের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের বরণ করা হলেও, বর্তমানে ছাত্রদলের মূল গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসে বিএনপির সম্মেলন করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করা। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসবাদ ও আপত্তিকর কর্মকাণ্ড চালানোর পথ প্রশস্ত করছে।”
ফারদিন ইসলাম কলেজের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভের সাথে বলেন, “বর্তমানে এই কলেজের যে অবস্থা, তাতে এর নাম পরিবর্তন করে ‘জাতীয়তাবাদী তোলারাম কলেজ’ রাখা উচিত।”
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তোলারাম কলেজের ছাত্র সংসদের তহবিলে ১৩ লক্ষ টাকা মজুদ ছিল। নিয়ম অনুযায়ী এই টাকা নবীন বরণসহ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, সেই ১৩ লক্ষ টাকা কি ছাত্রদল নেতাদের পেটে চলে গেছে? যদি টাকা মজুদ থাকে, তবে কেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপিসহ বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে ‘ফান্ড’ কালেকশন করা হলো? তবে কি টাকা সংগ্রহের নাম করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ডেকে সরকারি এই কলেজকে ছাত্রদলের ব্যক্তিগত আখড়ায় পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে?”
ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় ছাত্রশক্তির এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি শুধু নামেই রাজনীতি করতে আসেনি। ছাত্র সংগঠনের মূল কাজ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও তাদের পাশে দাঁড়ানো। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে সবসময় কথা বলেছি এবং বলে যাব। কোনো ছাত্র সংগঠনকে কলেজ ক্যাম্পাসে পেশিশক্তি বা আধিপত্য বিস্তার করতে দেওয়া হবে না।”
বিবৃতিতে তিনি আরও যোগ করেন, “যদি কোনো সংগঠন শিক্ষার্থীদের আবেগ নিয়ে খেলা করে কিংবা ক্যাম্পাসে আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা চালায়, তবে জাতীয় ছাত্রশক্তি তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবে। আমরা কোনো অবস্থাতেই তোলারাম কলেজকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসবাদের চারণভূমি হতে দেব না।”
ফারদিন ইসলাম আশা প্রকাশ করেন যে, কলেজ প্রশাসন দ্রুত এসকল অনিয়ম বন্ধ করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।