আংশিক নয়, বরং পুরো কুতুবপুর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ। আজ বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘কুতুবপুর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তকরণ বাস্তবায়ন কমিটি’র ব্যানারে এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
কর্মসূচি থেকে নেতৃবৃন্দ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পুরো ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় না আনা হলে কুতুবপুরের মাটিতে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হাজী মোঃ শহীদুল্লাহ্-র সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এস.এম কাদির-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে কুতুবপুরের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মোঃ নুরুল হক জমাদ্দার এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ফতুল্লা থানা শিল্পাঞ্চল কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোঃ বাবুল আহমেদ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন বর্তমানে একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নগর জনপদে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস ও উচ্চ জনঘনত্বের এই এলাকায় নৌবাহিনী ঘাঁটি, সেনাক্যাম্প, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পার্ক ও অসংখ্য শিল্প-কারখানা রয়েছে। এছাড়া এখানে ২০টি মাদ্রাসা, ৩৩টি কিন্ডারগার্টেন, ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজসহ সমৃদ্ধ নগর কাঠামো বিদ্যমান।
এ সময় সংগঠনের আহ্বায়ক হাজী শহিদুল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯-এর সকল মানদণ্ড কুতুবপুর বহু আগেই পূরণ করেছে। অথচ গত ০৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে ইউনিয়নটির কেবল আংশিক অংশ সিটিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা কুতুবপুরবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
কঠোর হুঙ্কার দিয়ে বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এস.এম কাদির বলেন, “কুতুবপুরকে খণ্ডিত করার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। যদি পুরো ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত না করা হয়, তবে কুতুবপুরে আগামীতে কোনো নির্বাচন হবে না। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ন্যায়সংগত দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায়ভার জেলা প্রশাসনকেই নিতে হবে।
কর্মসূচি শেষে একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে পুরো কুতুবপুরকে নাসিকের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।