ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের ভাড়া পুনরায় ৫ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি ইউশা ইসলাম। জনস্বার্থবিরোধী এই সিদ্ধান্তকে ‘নগরবাসীর ওপর জুলুম’ অভিহিত করে অবিলম্বে এই বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্রনেতা ইউশা ইসলাম বলেন, “ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গত ২০২৫ সালের ২০ আগস্টও একইভাবে হুট করে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। আন্দোলনের মুখে তৎকালীন জেলা প্রশাসন এবং বাস মালিকরা পিছু হটে ভাড়া ৫০ টাকা বহাল রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন।”
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “পূর্ববর্তী সমঝোতায় স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ভাড়া ৫০ টাকাই থাকবে এবং সপ্তাহে সাত দিন শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু সেই সমঝোতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন করে ভাড়া বাড়ানো সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে যাতায়াত ব্যয়ের এই বাড়তি চাপ সাধারণ মানুষের ওপর চরম অবিচার।”
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইউশা ইসলাম বলেন, “আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, নারায়ণগঞ্জের ছাত্র সমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। অনতিবিলম্বে এই বর্ধিত ৫ টাকা প্রত্যাহার করে পূর্বের ৫০ টাকা ভাড়া বহাল রাখতে হবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় নাগরিক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে জনসম্মতি নিতে হবে।”
বিবৃতিতে তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন:
১. অবিলম্বে বর্ধিত ৫ টাকা প্রত্যাহার করে ৫০ টাকা ভাড়া বহাল করা।
২. সপ্তাহে ৭ দিনই শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর রাখা।
৩. বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত সড়কের দূরত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন স্টপেজের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ ও আদায় করা।
ইউশা ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি দ্রুত এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হয়, তবে নারায়ণগঞ্জের ছাত্র সমাজ নগরবাসীকে সাথে নিয়ে পুনরায় রাজপথে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবে। মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা কোনো আপস করব না।”