নারায়ণগঞ্জের বন্দরে জামাতার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে| এ ঘটনায় বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীর বৃদ্ধা মা| ৩ মে, রবিবার পেশ করা এই আবেদনটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে|
অভিযোগকারী সেতারা বেগম (৬৬) বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকার বাসিন্দা| লিখিত আর্জিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁর মেয়ে ফাতেমা আক্তার নিলার সাথে মো. পলাশ নামের এক ব্যক্তির বিয়ে হয়| বিয়ের পর থেকেই নিলার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি|
সেতারা বেগম জানান, পারিবারিক অশান্তি ও নিয়মিত নির্যাতনের কারণে তাঁর মেয়ে প্রায়ই বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হতেন| তিনি আরও অভিযোগ করেন, পলাশ কয়েক বছর আগে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন| এরপর থেকেই নিলার প্রতি অবহেলা ও নির্যাতন চরম আকার ধারণ করে|
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বছরের নভে¤^র মাসে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে নিলা কিছুদিন মায়ের বাড়িতে ছিলেন| পরবর্তীতে ¯^ামী পলাশ তাঁকে বুঝিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান| সেখানে থাকাকালীন নিলা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে অবহেলায় ঘরে ফেলে রাখা হয়| অবস্থার চরম অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়|
ভুক্তভোগী মায়ের অভিযোগ, তাঁর মেয়ের কাছে গচ্ছিত থাকা প্রায় ৭ থেকে ১০ ভরি ¯^র্ণালঙ্কার মৃত্যুর পর আত্মসাৎ করেছেন পলাশ| ¯^র্ণালঙ্কার ফেরত চাইলে পলাশ নানা টালবাহানা করছেন এবং উল্টো ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন|
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেতারা বেগম বলেন, “আমার মেয়ের জীবনে কোনো দিন শান্তি ছিল না| আমি বিশ্বাস করি, প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত করলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে|”
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে তারা অবগত ছিলেন| তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পলাশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি|
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হওয়া জরুরি| এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে