ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ‘বন্ধন’ ও ‘উৎসব’ পরিবহনের বাস ভাড়া কোনো প্রকার যৌক্তিক কারণ বা অংশীজনদের সাথে আলাপ ছাড়াই পুনরায় ৫ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। এই সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী ও লুণ্ঠনমূলক’ অভিহিত করে পুনরায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (৪ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাইদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেন এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের ভাড়া পুনরায় ৫ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ একতরফা। বাস মালিকরা সাধারণ জনগণের সুবিধা-অসুবিধাকে তোয়াক্কা না করে যখন-তখন ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। এটি পরিবহন সেবা নয়, বরং একতরফা লুটপাটের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে ভাড়া কমানো হয় না, কিন্তু তেলের দামের সামান্য অজুহাতে তারা রাতারাতি ভাড়া বাড়িয়ে দেয়।”
গত বছরের সমঝোতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ছাত্র নেতারা বলেন, “২০২৫ সালের ২০ আগস্ট যখন একইভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল, তখন ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে জেলা প্রশাসন ও মালিকপক্ষ বৈঠকে বসতে বাধ্য হয়েছিল। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ভাড়া ৫০ টাকা বহাল থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে ৭ দিন কোনো শর্ত ছাড়াই হাফ পাস (অর্ধেক ভাড়া) কার্যকর করা হবে। কিন্তু মালিকপক্ষ সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আবারও ভাড়া বাড়িয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে পরিবহন শ্রমিকরা হাফ পাসের জন্য দুর্ব্যবহার করছে। এটি স্পষ্টত প্রতারণা ও ঔদ্ধত্যের শামিল।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই উৎসব ছাত্র সমাজ মেনে নেবে না। ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়:
১. অবিলম্বে বর্ধিত ৫ টাকা প্রত্যাহার করে পূর্বের ৫০ টাকা ভাড়া বহাল করা।
২. সপ্তাহে ৭ দিন কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই সকল শিক্ষার্থীর জন্য ‘হাফ পাস’ কার্যকর করা।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নারায়ণগঞ্জের মাটিতে বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। যদি দ্রুত এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হয়, তবে নারায়ণগঞ্জের ছাত্র সমাজ ও সাধারণ নগরবাসীকে সাথে নিয়ে আবারও রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আমরা কোনো আপস করব না।”
ছাত্র ফেডারেশনের এই কঠোর বার্তার পর নারায়ণগঞ্জের সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আন্দোলনের উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।