মহান মে দিবসের ১৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে বিশাল শ্রমিক সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট’ জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশ থেকে বর্তমান বাজারদর ও দেশের মাথাপিছু আয় বিবেচনা করে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সরকার মাথাপিছু আয়ের যে খতিয়ান (২৮৪২ ডলার) দেয়, সেই অনুযায়ী একটি পাঁচ সদস্যের শ্রমিক পরিবারের মাসিক আয় হওয়ার কথা ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকার বেশি। কিন্তু বাস্তবে এদেশের শ্রমিকরা মানবেতর মজুরিতে দিন কাটাচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা উন্নতির গর্ব করলেও শ্রমিকের মজুরি নিয়ে নীরব। বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা শ্রমিক আর ধনী মালিকের দেশে পরিণত হয়েছে। এই চরম আয় বৈষম্যই প্রমাণ করে এদেশের উন্নয়ন শ্রমিকের জন্য নয়।”
শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যে রক্ত ঝরেছিল, তার মূল উদ্দেশ্যই ছিল শোষণমুক্তি। কিন্তু আজ ১৪০ বছর পরও শ্রমিকদের মজুরি চুরি হচ্ছে, ছাঁটাই আর নির্যাতন চলছে। মনে রাখতে হবে, লড়াই ছাড়া অধিকার আদায় হয় না। মালিক বা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের কাছে দয়া চেয়ে অধিকার পাওয়া যায় না, লড়াইয়ের পথেই মুক্তি।”
তিনি আরও বলেন, “পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকের শ্রম দিয়ে সম্পদ সৃষ্টি করা হয় আবার সেই সম্পদ ধ্বংস করতে যুদ্ধ বাধানো হয়। এই ব্যবস্থা পাল্টানোই আজ শ্রমিকের জরুরি কর্তব্য। ৩০ হাজার টাকার কম মজুরি দিয়ে বর্তমানে একটি পরিবারের মানসম্মত জীবনযাপন, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা অসম্ভব।”
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সহ-সভাপতি এম এ মিল্টন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্টের জামাল হোসেন, এস এম কাদির, সাইফুল ইসলাম শরীফ এবং মটরযান মেকানিক শ্রমিক ইউনিয়নের তাজুল ইসলাম।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল লাল পতাকা মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে কয়েক হাজার শ্রমিক অংশ নিয়ে ‘মজুরি চুরি বন্ধ করো’, ‘৩০ হাজার টাকা মজুরি দাও’ এবং ‘ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করো’—এমন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা না হয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।