নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশন ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের আহবানে সাড়া দিয়ে স্ব-সম্মানে ফুটপাত থেকে সরে দাঁড়ালেও, গত ১৫ দিন ধরে কোনো বিকল্প কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসন না পাওয়ায় ক্ষোভ ফেটে পড়েছেন হকাররা। হকার নেতাদের দাবি, তাদের সম্মানের সুযোগ নিয়ে মূলত ‘গরিবের পেটে লাথি মারা হয়েছে’।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও পরবর্তী সমাবেশে মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি মিজানুর রহমান রনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে রনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “তারা আমাদের অভিভাবক। আমরা তাদের সম্মান জানিয়ে রাস্তা থেকে সরে গিয়েছি। কিন্তু আজ ১৫ দিন হয়ে গেল, আমাদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা দিন আনি দিন খাই। সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হতে বসেছে, ঘরে ঘরে অর্থ সংকট শুরু হয়েছে।”
তিনি প্রশাসনের উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “সন্তানকে যখন বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়, দিনশেষে বাবা-মা সেই সন্তানকে ঠিকই ডেকে নেয়। কিন্তু আমাদের খোঁজ কেউ নিচ্ছে না। বাড়ির বাইরে যখন কুকুর ঘেউ ঘেউ করে, তখন মালিক দরজা খুলে দেখে কেন সে শব্দ করছে। কিন্তু আমরা চিৎকার করলেও আমাদের কথা শোনার কেউ নেই।”
মৌলিক অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রনি বলেন, “আপনি আমার মুখে খাবার দিতে না পারেন, কিন্তু পেটের দায়ে হকারি করার অধিকার কেড়ে নিতে পারেন না। আমরাও মানুষ, আমাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আমি মূর্খ মানুষ হতে পারি, কিন্তু এতটুকু বুঝি যে আমার কর্মসংস্থান আমাকেই করতে হবে। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দয়া করে আমাদের জন্য কিছু একটা করুন।”
বিক্ষোভ মিছিলে হকাররা স্লোগান দেন যে, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ তারা মানবেন না এবং অতিদ্রুত তাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, আলাউদ্দিন আহমেদ, আজাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন, প্রচার সম্পাদক মনির হোসেন, জাকির, আব্দুল হাকিম, কোষাধ্যক্ষ হৃদয় সাহা সহ বিপুল সংখ্যক হকার।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত কোনো সমাধান না আসে, তবে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।