নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউছুফ খান টিপু বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জের রাজপথে ঘাতক ও গডফাদার শামীম ওসমান বা সেলিম ওসমানের কোনো সমর্থককে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। যেখানেই এই সন্ত্রাসীদের পাবেন, সেখানেই তাদের প্রতিহত করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেবেন। আগামী ২৬ জুন রাত পর্যন্ত আমাদের এই পাহারা ও সতর্ক অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলটির সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মিছিলটি নগরীর মিশনপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
অ্যাডভোকেট টিপু তাঁর বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়েছেন—কোনো অরাজকতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা বা ভূমিদস্যুতা বরদাশত করা হবে না। আমরা চাই সাধারণ মানুষ যেন জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শান্তিতে চলাচল করতে পারে এবং ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে। সাধারণ মানুষকে কোনো সন্ত্রাসীর হাতে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না।”
আওয়ামী লীগের পলায়নপর রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর রাজপথে ছিলাম, হাজার হাজার মিথ্যে মামলা খেয়েছি, হামলার শিকার হয়েছি, তবুও আমরা রাজপথ ছাড়িনি। আর তারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতার পটপরিবর্তনের মাত্র চার মাসের মাথায় পালিয়ে গেছে। তাদের এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যারা পালিয়ে গেছে, তাদের হয়ে রাস্তায় কোনো অরাজকতা করার চেষ্টা করবেন না; করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
টিপু আরও বলেন, “আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক এবং ভূমিদস্যুতা থেকে মুক্ত করতে চাই। এই শহর কোনো গডফাদারের নয়, এই শহর সাধারণ মানুষের। আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং যেকোনো মূল্যে এই সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করুন।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মহানগর বিএনপির সদস্য ডাঃ মজিবুর রহমান, মোস্তাকিম মাকিদ শিপলু, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল হোসেনসহ মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করেন এবং যেকোনো ধরণের অপতৎপরতা রুখে দিতে রাজপথে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মহানগর বিএনপির এই কঠোর অবস্থানের ফলে শহরজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।