নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনডিএ)-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জকে একটি পরিকল্পিত, বাসযোগ্য, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত এই ঐতিহাসিক শহরটিকে বিশ্বমানের একটি মেগাসিটিতে রূপান্তর করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
এক সাক্ষাৎকারে মাশুকুল ইসলাম রাজিব তাঁর কর্মপরিকল্পনার মূল দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, “নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অপরিকল্পিত নগরায়ন। আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং বিজ্ঞানসম্মত মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) প্রণয়ন করব। যত্রতত্র ভবন নির্মাণ বন্ধ করে আবাসন ও বাণিজ্যিক এলাকার সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুশৃঙ্খল শহর পায়।”
শহরের প্রধান দুই অভিশাপ যানজট ও জলাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি হলো যানজট। আমরা প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ এবং বিকল্প বাইপাস সড়ক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেব। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “শহরে সবুজের সমারোহ বাড়াতে বৃক্ষরোপণ এবং খেলার মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হবে পুরো শহরকে।”
প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি নিয়ে রাজিব বলেন, “এনডিএ হবে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে সকল সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের দালালি বা দুর্নীতির ঠাঁই এই প্রতিষ্ঠানে হবে না। ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে সমন্বিত উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করা হবে। আমরা কেবল বড় বড় দালান চাই না, আমরা চাই একটি মানবিক ও বাসযোগ্য শহর। এ কাজে আমি সর্বস্তরের নারায়ণগঞ্জবাসীর সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।”
উল্লেখ্য, মাসুকুল ইসলাম রাজিব নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জের রাজপথের একজন অত্যন্ত সুপরিচিত নেতা। তাঁর এই নিয়োগের পর নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন স্থানীয় নেতা হিসেবে তিনি নারায়ণগঞ্জের নাড়ির স্পন্দন বোঝেন, যা শহরের প্রকৃত উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।