গত কয়েকদিন ধরে তীব্র যানজটে নাজেহাল নারায়ণগঞ্জ শহর। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ব্যবসায়ী, কর্মজীবী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বিকেএমইএ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও মডেল গ্রুপ সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ- ৫ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট আবুল কালাম–এর সার্বিক সমর্থন ও শহরে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান- এর দিকনির্দেশনায় তিন প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে “উই আর ভলান্টিয়ার” কার্যক্রমের আওতায় চেম্বারের পরিচালক ও “উই আর ভলান্টিয়ার”–এর প্রতিষ্ঠাতা আহমেদুর রহমান তনু–র তত্ত্বাবধানে ২২ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করা হয়েছে।
আজ (২০ মে) থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত চাষাড়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের সহায়ক হিসেবে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগেও ব্যবসায়ী সংগঠনের উদ্যোগে একাধিকবার স্বেচ্ছাসেবীরা মাঠে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আরও সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, “সামনে ঈদুল আজহা। আর এই আনন্দের সময় নগরবাসী যেন যানজটের ভোগান্তিতে না পড়েন, সেজন্য আমরা আবারও উদ্যোগ নিয়েছি। এই শহর আমাদের সবার। শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজেরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু সাময়িক উদ্যোগ নয়, দীর্ঘমেয়াদে যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সকলের সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হই, তাহলেই নারায়ণগঞ্জকে একটি যানজটমুক্ত সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঈদের বাড়তি চাপের এই সময়ে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে এটি নাগরিক সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ী সমাজের সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি দৃষ্টান্ত।