আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান (পিপিএম-সেবা)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সভায় পুলিশ সুপার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি বিশেষায়িত সাইবার টিম সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারি (মনিটরিং) চালাবে। বিশেষ করে ‘ফেক নিউজ’ কিংবা এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বিকৃত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে যাতে কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, কেবল দেশেই নয়, দেশের বাইরে থেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালানো হতে পারে। এ ধরনের গুজব দ্রুত প্রতিহত ও তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে পুলিশ প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বয়ে একটি বিশেষ ‘হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার উপক্রম দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে বার্তা পাঠালে পুলিশ মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকশনে যাবে।
বিগত বছরের দুর্গাপূজার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, “অতীতে পূজাকে ঘিরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা দেখা গিয়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের ইতিবাচক অংশগ্রহণ রয়েছে। ফলে এবার অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।”
তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “পূজার সুন্দর পরিবেশ বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে কেউ যদি কোনো ধরনের অপতৎপরতা কিংবা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালায়, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো ষড়যন্ত্রের আগাম তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, উৎসব নির্বিঘ্ন ও শঙ্কামুক্ত রাখতে জেলা পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে।







