মঙ্গলবার বেলা ১২টায় নগর ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শহীদ জিয়া হলের স্থাপত্য নকশা উপস্থাপনা’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
নাসিক প্রশাসক বলেন, “বিগত সরকারের আমলে এই ঐতিহাসিক জিয়া হলটি ভেঙে ফেলার গভীর চক্রান্ত হয়েছিল। একটি বিশেষ মহল এখানে বহুতল বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের অপচেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই দিন এখন বদলে গেছে, সেই পক্ষও আর নেই। নারায়ণগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী আমরা এই হলটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রে রূপান্তর করতে চাই। বর্তমান সরকারও জনকল্যাণমুখী এ উদ্যোগকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছে।”
প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, “জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-র প্রতি আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। সরকারের মাধ্যমে জাইকা আমাদের ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিলে প্রাথমিকভাবে ১৮০ কোটি টাকার কাজ চূড়ান্ত হয়। পরবর্তীতে আমরা তাদের কাছে বাকি অর্থে জিয়া হলকে আধুনিকায়নের প্রস্তাব দেই এবং ইতিবাচক সাড়া পাই।”
নকশার রূপরেখা তুলে ধরে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক চর্চাসহ বহুমুখী কর্মকাণ্ডের প্রধান ‘হাব’-এ পরিণত হবে। প্রস্তাবিত নকশায় মাটির নিচে দুই তলা আন্ডারগ্রাউন্ড বেসমেন্ট রাখা হয়েছে, যেখানে একসাথে প্রায় ৩শ থেকে ৪শ গাড়ি পার্কিং করা যাবে। এছাড়া মাটির ওপরে নির্মিত হবে ৯ তলা বিশিষ্ট আধুনিক কমপ্লেক্স। সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের নাট্যশালা (অডিটোরিয়াম), আর্ট গ্যালারি, আধুনিক সিনেপ্লেক্স, বৃহৎ কমিউনিটি সেন্টার এবং ফুডকোর্টসহ নানান নাগরিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই এর চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন ও নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম।
নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে সভায় আরও অংশ নেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাইনুদ্দিন আহমাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাবেক নারী কাউন্সিলর দিলারা মাসুদ ময়না, খেলাঘর আসরের সভাপতি জহিরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত বক্তারা জিয়া হলকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার না করে দ্রুত একটি নান্দনিক ও আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।