নারায়ণগঞ্জে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার পৈত্রিক সম্পত্তি জাল জালিয়াতি ও পেশিশক্তির মাধ্যমে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। জমিটি দখল করতে ওই কর্মকর্তাকে মিথ্যে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানো এবং ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা গেছে।
ভূক্তভোগী মোঃ হেমায়েত চৌধুরী (৫৬), যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, গত কয়েকদিন ধরে ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ চক্রের হাতে চরমভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন খোন্দঘোষপাড়া মৌজার ৩১ শতাংশ জমি নিয়ে এই বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। হেমায়েত চৌধুরী পৈত্রিক ও হেবা দলিল সূত্রে উক্ত জমির বৈধ মালিক এবং দীর্ঘকাল ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
এজাহারে জানা যায়, বিবাদী রেবা রানী রায়, মোঃ পারভেজ, ভুয়া সেনাবাহিনী পরিচয়দানকারী জনৈক মিজান ও তাদের সহযোগীরা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে উক্ত জমির নামজারি করার চেষ্টা চালায়। গত ৩ আগস্ট রাত অনুমান ২টার সময় তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমিতে প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। এসময় বাধা দিলে হেমায়েত চৌধুরীর দারোয়ানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বিবাদীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে জমি জবরদখল করে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে গত ১৭ আগস্ট মোঃ ইকবাল হোসেন, মোক্তার ও লিটনসহ একদল সন্ত্রাসী পুনরায় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে এবং পুনরায় মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। তারা ওই জমির ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ডেভেলপার কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মালিকের কাছেও একই পরিমাণ চাঁদা দাবি করে আসছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ভূক্তভোগী হেমায়েত চৌধুরীকে সামাজিকভাবে হেয় করতে ও সম্পত্তি গ্রাস করতে চক্রটি তাকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাকে ‘যুবলীগ কর্মী’ পরিচয় দিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার একটি গাড়ি পোড়ানো মামলায় ফাঁসানোর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বন্দর থানায় তদন্ত করা হলে এলাকাবাসী স্পষ্ট জানান যে, হেমায়েত চৌধুরী একজন সৎ সরকারি কর্মচারী ছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।
ভূক্তভোগী হেমায়েত চৌধুরী জানান, “আমি সারাজীবন সরকারি চাকরি করেছি, কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নই। অথচ আজ আমার পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে আমাকে মিথ্যে মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি আমার জানমালের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। সাধারণ মানুষের দাবি, ডিজিটাল বাংলাদেশে ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসন যেন দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।