নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লী হাউজিং থেকে একটি দামী মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও তা উদ্ধারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে পুলিশ বাইকটি উদ্ধার বা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৫ জুলাই তরিকুল ইসলামের শ্যালক আশরাফুল কবির রেভেন তার ‘জিক্সার ২৫০ এফআই এবিএস’ (ঢাকা মেট্রো-ল-৭২৯৫৭১) মডেলের ব্ল্যাক রঙের বাইকটি তরিকুলের বাসায় রেখে বিদেশে যান। এরপর থেকে বাইকটি ওই বাসার পার্কিংয়েই রাখা ছিল। গত ৮ জুলাই রাত সোয়া ১০টার দিকে বাসার কেয়ারটেকার (দারোয়ান) তরিকুল ইসলামকে ফোন করে জানান যে, পার্কিংয়ে রাখা বাইকটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তরিকুল ইসলাম দ্রুত গ্যারেজে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করেও বাইকটি পাননি। গেটে সার্বক্ষণিক দারোয়ান থাকা অবস্থায় কীভাবে বাইকটি চুরি হলো—এ বিষয়ে দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীকালে তরিকুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় গিয়ে দায়িত্বরত দারোয়ানকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তরিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তার শ্যালক বিদেশে যাওয়ার পর তিনি নিজেই বাইকটির দেখাশোনা করতেন। দারোয়ানের অসংলগ্ন কথাবার্তায় তার সন্দেহ হয় যে, দারোয়ান নিজেই বাইকটি সবার অজান্তে কোথাও সরিয়ে বা লুকিয়ে রেখেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, “মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সে সময় বাড়ির মালিক বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের জন্য কয়েক দিন সময় নিয়েছিলেন। তিনি ব্যর্থ হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। বর্তমানে আমি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আছি, থানায় ফিরে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বাড়ির মালিক বদিউল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও শ্যালকের আমানত হিসেবে রাখা শখের বাইকটি উদ্ধার না হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তরিকুল ইসলাম। তিনি দ্রুত বাইকটি উদ্ধার এবং চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।