“দল কোনো পরিবারের সম্পত্তি নয়, এটি হাজারো ত্যাগী নেতাকর্মীর ঘাম ও ত্যাগের ফসল। দলকে শক্তিশালী করতে হলে পদ-পদবী বণ্টনে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”—সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসমা হেলেন বিথী।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নেতৃত্বের বৈচিত্র্য বাড়াতে এবং নতুন ও সৎ কর্মীদের সুযোগ করে দিতে দলীয় পদ-পদবী বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নীতি থাকা প্রয়োজন। বিথীর প্রস্তাব অনুযায়ী, একই পরিবারের একাধিক সদস্য (যেমন স্বামী-স্ত্রী বা নিকট আত্মীয়) যেন গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এতে দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আস্থা ফিরবে এবং সংগঠন আরও গণমুখী হবে।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মৃতি চারণ করে অ্যাডভোকেট আসমা হেলেন বিথী বলেন, “বিগত ১৭-১৮ বছর ধরে আদালত অঙ্গনে দলের জন্য নিবেদিতভাবে শ্রম দিয়ে আসছি। আমি দলের জন্য কতটা নিবেদিত ছিলাম, তা আদালত অঙ্গনের প্রতিটি ব্যক্তি—সে বিএনপি হোক কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, এমনকি সাংবাদিক ভাইয়েরাও দেখেছেন। রাজপথে এবং আদালতে লড়াই করার বিনিময়ে আমরা ক্ষমতার চেয়ার নয়, চেয়েছিলাম কাজের স্বীকৃতি ও সঠিক মূল্যায়ন।”
বিবৃতিতে তিনি দলের আরেক নিবেদিতপ্রাণ নেত্রী রহিমা শরীফ মায়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, “মায়া আপাকে কলেজ জীবন থেকেই মহিলা কলেজের নেত্রী হিসেবে দেখে আসছি। তিনি প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে দলের অগ্রভাগে থেকেছেন। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এই দীর্ঘ ত্যাগের বিনিময়ে দল থেকে তারা সঠিক মূল্যায়ন বা যোগ্য পদ কি পেয়েছেন?”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি যখন পদ দখল করে থাকেন, তখন অনেক যোগ্য ও পরিশ্রমী নেতা নেতৃত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এতে দলের ভেতরে কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং নতুন নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
অ্যাডভোকেট বিথী তার এই আবেদন ও পরামর্শ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর করতে চান। তিনি বলেন, “আমি কোনো লোভ বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এসব কথা বলছি না। যেটা সত্য ও বাস্তব, তাই তুলে ধরেছি। আমি চাই আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান বিষয়টি অনুধাবন করবেন, যাতে দল থেকে মায়া বা বিথীর মতো যোগ্য ও পরিশ্রমী কর্মীরা অবহেলার কারণে হারিয়ে না যায়।”
বিবৃতি শেষে তিনি পুনরায় দাবি তোলেন— “এক পরিবারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ নয়”—এই নীতিই হোক আগামী দিনে শক্তিশালী সংগঠন গড়ার মূল ভিত্তি।
—