মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ১৬০ মাস পূর্ণ হলেও বিচার শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। আজ সন্ধ্যায় আলী আহমদ চুনকা নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোক প্রজ্বলন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে ব্যবস্থার পরিবর্তন চাইলেও চাঁদাবাজি ও দখলের মহোৎসবে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুস্বপ্নের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ত্বকীর বাবা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে রফিউর রাব্বি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে যে ওসমান পরিবার হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তারাই ত্বকীকে হত্যা করেছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে ঘাতকদের রক্ষার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, তাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সেই ওসমান পরিবারের লুটপাট ও চাঁদাবাজির সকল ক্ষেত্র এখন বিএনপির কতিপয় লোক দখল করে নিয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ফেরিঘাট, পরিবহন, হাটবাজার ও স্ট্যান্ড থেকে এখন বিএনপির লোকজন চাঁদা তুলছে এবং সেই টাকা বিদেশে পালিয়ে থাকা ঘাতকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। ঘাতকরা সেই টাকা দিয়ে দেশে স্বৈরাচারের পক্ষে মিছিল করাচ্ছে। আমরা এক দখলদারকে হটিয়ে আরেক দখলদার দেখতে চাইনি; আমরা চেয়েছিলাম বৈষম্যের অবসান ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা।”
সমাবেশে অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চাইলে ১৯ দিনে বিচার হয়, আবার সাড়ে ১৩ বছরেও হয় না—এমন ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। ত্বকী হত্যার বিচার ও চার্জশিট দ্রুত দাখিল করার ব্যবস্থা করুন।”
বক্তারা অবিলম্বে ত্বকীসহ সাগর-রুনি, তনু এবং চব্বিশের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০১৪ সালে তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। তবে এক দশকেও সেই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে পেশ করা হয়নি। এই বিচারহীনতার প্রতিবাদে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।