মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে নগরীর মিশনপাড়া হোসিয়ারী সমিতির মিলনায়তনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম টিটু ঢালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক। তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করেছিলেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের বাক-স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রবর্তিত ১৯-দফা কর্মসূচি আজও এদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির মূল চালিকাশক্তি। প্রজন্ম দলকে শহীদ জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।”
প্রধান বক্তা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, “জিয়াউর রহমান কেবল স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, তিনি সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে বীর উত্তম খেতাব অর্জন করেছেন। তাঁর জীবন ও রাজনীতি ছিল দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত।”
বিশেষ বক্তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, “শহীদ জিয়ার উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিই আজ আমাদের পথ চলার শক্তি। নারায়ণগঞ্জের পরিকল্পিত উন্নয়নে আমরা তাঁর সেই আদর্শকেই অনুসরণ করছি।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ড. কে এম আই মন্টি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহিদুল হক শামীম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম হেলাল উদ্দিন এবং ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. দিদার খন্দকার।
সভাপতির বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম টিটু ঢালী বলেন, “প্রজন্ম দল সবসময় রাজপথে থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। শহীদ জিয়ার স্মৃতি ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর কয়েকশ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে উন্নত মানের রান্না করা খাবার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম নেতা লুৎফর রহমান, মাসুদ রানা, মঞ্জুর আকাশ, জসিম খান, মো. সুমন, শিপলু, মোমিন, রিয়াদ মাওলা ও হৃদয়। মহানগর প্রজন্ম দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জহিরুল ইসলাম জয়, মোত্তাদিওর রহমান ইকরাম, শাহিন মাদবর, মো. রাজীব (সিদ্ধিরগঞ্জ থানা), সোহান, হাবিবুর রহমান ইমন, আব্দুল আহাদ এবং বন্দর থানা প্রজন্ম দলের পক্ষে মো. মিন্টু, শান্ত জামান, লিউস, মো. রিফাতসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী।