গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৩টায় শহরের চাষাঢ়া নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনের সামনে ‘সম্মিলিত সনাতন সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন। এ সময় আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে জাগো হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ সনাতনী ছাত্রসমাজ, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট এবং বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মন্দিরের ভেতরে রামচন্দ্রের বিগ্রহ স্থাপনের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি পক্ষ বাধা প্রদান করছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। সনাতন সম্প্রদায় অত্যন্ত ধৈর্য্যের সাথে সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল মানববন্ধন ডেকে আমাদের আরাধ্য ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের ছবিতে জুতা নিক্ষেপসহ চরম অশ্লীল ও অবমাননাকর কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই জঘন্য কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ধর্মীয় অবমাননার দায়ে দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে শান্তিকামী সনাতনী সমাজ আগামীতে আরও বৃহৎ ও কঠোর কর্মসূচির ডাক দিতে বাধ্য হবে।”
জাগো হিন্দু পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুজন দাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন— মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক নয়ন সাহা, সদস্য সচিব শ্রী ঋষিকেশ মন্ডল মিঠু, ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শিবু দাস, সজীব দাস, তন্ময় দাস তুর্য্য, চন্দন দে, বিজয় কাব্য, ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা খোকন সাহা, অভিজিৎ সাহা এবং অভি করসহ আরও অনেকে।
সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উকিলপাড়া এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় অবমাননার বিচার চেয়ে এবং দোষীদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাধা কৃষ্ণ মন্দিরের ভেতর রামচন্দ্রের প্রতিমা স্থাপন নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের নির্দেশে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে একটি পক্ষ থেকে রামচন্দ্রের ছবির প্রতি অবমাননাকর আচরণ করা হলে দেশজুড়ে সনাতনীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।