রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিদ্ধিরগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জালকুড়ি আহলে সুন্নাত-ওয়াল জামাতের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মুসাপুর ইউনিয়ন যুবসমাজের আয়োজনে আনন্দঘন নৌ ভ্রমণ খালেদা জিয়ার ত্যাগের ঋণ এ দেশের মানুষ শোধ করতে পারবে না: এমপি মান্নান নারায়ণগঞ্জে খালেদা জিয়া গোল্ডকাপ দাবার ঘোষণা: ভারতের সৌরভ চৌবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন অর্থনীতির কঠিন সময়ের পূর্বাভাস স্পষ্ট, সতর্ক না হলে মূল্য দিতে হবে ব্যবসায়ীদের:নাজমুল আনছারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী: ডা. মজিবুর রহমানের বিনম্র শ্রদ্ধা নারায়ণগঞ্জে আন্তর্জাতিক দাবা শুরু সন্ত্রাসীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে, নৈরাজ্য ঠেকাতে পাড়ায় পাড়ায় পাহারা দিন’: এড. টিপু বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন: নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দুলাল হোসেনের শ্রদ্ধা মহিলা পরিষদ’র উদ্যোগে না’গঞ্জে “মহুয়া খান কিশোরী স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ্র” উদ্বোধন 

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা দেশ বিক্রি হবে না, বৈষম্য থাকবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭৮ 🪪
নারায়ণগঞ্জ, ৩১ জুলাই ২০২৬: আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার উদ্যোগে আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল চৌধুরী বাড়ী বাসস্ট্যান্ডে এক সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সমন্বয়ক ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ। বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা বর্ধিত ফোরামের সদস্য ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, বাংলাদেশ ফার্বামাসিউটিক্যালস ওয়ার্কার্স এন্ড এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বাসদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির সদস্য ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, বাসদ থানা কমিটির সদস্য নির্মল বর্মন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সাবেক সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম সুজন, সংগঠক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে দেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, যুবক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ বৈষম্য, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল। বহু মানুষের আত্মত্যাগ, রক্ত ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটলেও জনগণের প্রত্যাশিত বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তারা বলেন, আজ দেশের মানুষ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, মব সন্ত্রাস, অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা, নারী ও সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং দুর্নীতির বিস্তার জনজীবনকে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। জনগণ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল, বাস্তবে তার পরিবর্তে নতুন ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী স্বৈরশাসনের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বিদায়ের প্রাক্কালে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অসম বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি, স্বাধীন বাণিজ্যনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে বলে তারা দাবি করেন। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের লালদিয়ার চর টার্মিনাল, কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগও দেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে তারা মন্তব্য করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য GSOMIA ও ACSA সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প, কৃষি, ওষুধশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত বিদেশি প্রতিযোগিতার মুখে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশের শ্রমজীবী মানুষ বহুমুখী সংকটে রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অথচ ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা তো দূরের কথা, অনেক শ্রমিক মাস শেষে বেতন পেলেও ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা না থাকায় দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হন। নিজের উপার্জিত অর্থ উত্তোলনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়, একাধিক বুথে ঘুরতে হয়, এমনকি কয়েকদিন ধরে কিস্তিতে টাকা তুলতে বাধ্য হন। এই দুর্ভোগ অবিলম্বে বন্ধ করে শ্রমিকদের জন্য নির্বিঘ্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এছাড়া বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটের কথা তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলেও এ ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
বক্তারা আরও বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এটি বাস্তবসম্মত নয়। রাজস্ব আদায়ের অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে সাধারণ জনগণের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা আরও বাড়বে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থান খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ না থাকায় এই বাজেট জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে তারা মনে করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান স্লোগান ছিল— “বৈষম্য থাকবে না।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য আরও গভীর হয়েছে। একদিকে অল্প কয়েকজনের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, অন্যদিকে কোটি কোটি মানুষ বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান এবং ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
তারা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আধিপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। জাতীয় সম্পদ, বন্দর, নদী, জ্বালানি, শিল্প ও অর্থনীতিকে বিদেশি কর্পোরেট স্বার্থের কাছে সমর্পণ করা যাবে না। একই সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও গণতন্ত্রবিরোধী সব অপশক্তির বিরুদ্ধেও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দরসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশিদের ইজারা প্রদান বন্ধ, খুন, সন্ত্রাস, অপহরণ, মাদক, জমি দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশুদ্ধ খাবার পানির নিশ্চয়তা, শ্রমিকদের বেতন নির্বিঘ্নে উত্তোলনের জন্য সব ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ এবং জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশের শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শোষণ, বৈষম্য, লুটপাট ও মুনাফাভিত্তিক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন সম্ভব নয়। তাই মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিকতা ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুবক-নারীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে বাসদ ও বামপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102