বাসদ (বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার কর্মসূচি নিয়ে একটি মানসম্মত সংবাদ প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো
বাজেটে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষিসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত ‘অসম বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিল এবং এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কেন্দ্র ঘোষিত ‘দাবি সপ্তাহ’ (১৯-২৫ জুন) কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ ও পরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা শাখার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক এম এ মিল্টন, সদস্য সচিব এস এম কাদির এবং বাসদ বর্ধিত ফোরামের সদস্য সাইফুল ইসলাম শরীফ।
সভাপতির বক্তব্যে আবু নাঈম খান বিপ্লব বলেন, “সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বিশাল বাজেট ঘোষণা করেছে, তা মূলত ঋণনির্ভর ও ধনী তোষণের বাজেট। এই বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে ঋণের সুদ পরিশোধে। জনকল্যাণমুখী খাতগুলো অবহেলিত রেখে সামরিক ও অনুৎপাদনশীল খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং এটি সরাসরি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে।”
বক্তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বিগত সরকার নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে আমেরিকার সাথে যে অসম বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তা আমাদের কৃষি ও ওষুধ শিল্পসহ জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি। বর্তমান সরকার এই ‘দাসত্বের চুক্তি’ বাতিল না করে উল্টো তা বাস্তবায়ন করছে, যা দেশ ও জাতির জন্য অশনিসংকেত। অবিলম্বে এই গোলামী চুক্তি বাতিল করতে হবে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, লাভজনক এই টার্মিনালটি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত। এছাড়া জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা দেশে ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশার কারণে আজও হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না। নেতৃবৃন্দ দেশপ্রেমিক জনতাকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও লুটেরা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল চাষাড়া থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে সরকারবিরোধী এবং দাবি আদায়ের বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।