নারায়ণগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘ভিসা সাকসেস সেলিব্রেশন’ এবং জাপান গমনপূর্ব প্রস্তুতিমূলক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে নগরীর কালীরবাজারস্থ শিল্পকলা একাডেমিতে রিজিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘জাপান অ্যাডুকেশন এন্ড জব সেন্টার’-এর উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান। প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন রিজিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড ও জাপান অ্যাডুকেশন এন্ড জব সেন্টারের চেয়ারম্যান নাগামাৎসু ফারুক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও আধুনিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা কেবল নিজেদের ভবিষ্যৎই গড়বে না, বরং রেমিট্যান্স ও মেধা দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।”
তিনি আরও বলেন, “জাপানের মতো উন্নত দেশে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণরা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ দেখাতে জাপান শিক্ষা ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে নাগামাৎসু ফারুক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জাপানে পড়াশোনা ও বসবাসের ক্ষেত্রে কেবল ভাষা জানলেই চলবে না; বরং জাপানের আইন, সামাজিক নিয়ম-কানুন এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বর্তমানে জাপান সরকার বিদেশিদের নিয়ম পালনের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। তাই সেখানে যাওয়ার আগে বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য জরুরি।”
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার প্রশাসক মো. মহিউদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাইকম গ্রুপের চেয়ারম্যান অঞ্জন দাস, টিএমএসএস-এর আইসিটি ও পরিবেশ বিভাগের সেক্টর প্রধান নিগার সুলতানা, এজলিব-এর সহ-সভাপতি ও টপ লিংক এডুকেশনের চেয়ারম্যান মো. ওয়াকিল আহমদ এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মফিজ উদ্দিন খান।
অনুষ্ঠানে জাপানের ভিসা প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানো হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ওরিয়েন্টেশনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং জাপানে যাওয়ার পর তারা যেন কোনো প্রকার আইনি বা সাংস্কৃতিক জটিলতায় না পড়ে সে বিষয়ে সচেতন করা। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।