বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তরুণরা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারে: নাসিক প্রশাসক চানামারিতে শাহজালাল হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলোজি পরীক্ষার শুভ উদ্বোধন সাংবাদিক তানভীর হোসেন-এর মায়ের মৃত্যুতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলার শোক  সাংবাদিক তানভীর হোসেনের মাতৃবিয়োগে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর গভীর শোক তানভীর হোসেনের মায়ের মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির গভীর শোক প্রকাশ সাংবাদিক তানভীর হোসেনের মায়ের মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের (এনইউজে)র শোক ​ডা. শফিকুর রহমানের কর্মী সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ নারায়ণগঞ্জ: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির দোয়া ও মিলাদ মাহফিল সাংবাদিক তানভীর হোসেনের মাতৃবিয়োগে রেজা রিপনের শোক প্রকাশ ও সমবেদনা ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা আনতে নারায়ণগঞ্জে ‘ল্যান্ড একুইজিশন ম্যানেজমেন্ট’ সফটওয়্যার বিষয়ক মতবিনিময় সভা

ছিনতাইকারীদের বস সন্ত্রাসী সাব্বির বাহিনীর হামলায় তিনজন রক্তাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১৬৮ 🪪

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে মাসদাইর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাব্বির বাহিনী। ইতোমধ্যে মাদক, ছিনতাই লুটপাট মামলায় একাধিকবার জেল খেটেছে সন্ত্রাসী সাব্বির। যার কথার চেয়ে হাতের রামদা, দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসির। এর আগেও মানুষকে আটকিয়ে ছিনতাই করে নিঃস্ব করে সন্ত্রাসী সাব্বির বাহিনী।

সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লার ব্যবসায়ীর কাছে চাদাঁ না পেয়ে ফিল্মি স্টাইলে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা এবং ভাঙচুর চালিয়েছে কুখ্যাত কিশোর গ্যাং ও মাদক সম্রাট সাব্বির ওরফে ‘চশমা সাব্বির’ বাহিনী। হামলাকারীরা তিনজনকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে রক্তাক্ত জখম করেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এই শীর্ষ সন্ত্রাসী মাস খানিক আগে জেল থেকে বের হয়ে কিশোর গ্যাং নিয়ে আবারো অপকর্মে নেমে পড়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ব্যবসায়ীর উপর হামলা।
পরবর্তীতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স শনিবার দিবাগত রাতে ওই এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মাদক সম্রাট সাব্বিরের আস্তানা থেকে প্রায় ২ হাজার পিস ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ সাব্বিরের স্ত্রী অন্তরা খাতুন এবং তার বাহিনীর আরও ২ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

শনিবার (২৩ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর গুদারাঘাট হাজির মাঠ এলাকায় এই রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন মিজান, কুদরত ,গাড়িচালক জনি। তাঁদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসদাইরের হাজির মাঠ ও হুমায়ুন রোড এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা ‘চশমা সাব্বির’ এবং তার বাহিনীর সদস্যরা বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল।

ওই ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাব্বির চরম ক্ষিপ্ত হয়। এরই জেরে শনিবার রাতে সাব্বিরের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে আকস্মিক হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মিজান, কুদরত ও জনিকে রক্তাক্ত জখম করে।

আহত জনি জানান, রাতে ঢাকা থেকে কোম্পানির এক কর্মকর্তাকে মাসদাইরে তাঁর বাসায় পৌঁছে দিয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, বড় ছুরি ও পিস্তল হাতে একদল সন্ত্রাসী গাড়িটি ঘিরে ফেলে। প্রথমে তারা গাড়িটি অন্য কারও বলে সন্দেহ করে ভেতরে তল্লাশি চালায়। পরে চাদাঁর টাকা দাবী করে। তাৎখনিক প্রাণভয়ে জনি পকেট থেকে ৫০০ টাকা বের করে দিলেও সন্ত্রাসীরা তার কাছে থাকা বাকি টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তিনি পাশের বাসার গেটের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা মুখ লক্ষ্য করে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। এতে তার চোখ ও নাকের নিচে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানায়, খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশ দেখে সাব্বির বাহিনী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং গ্রেফতার এড়াতে পুলিশকে লক্ষ্য করে পরপর বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বিকট শব্দে ককটেল ফুটলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সুযোগে মূলহোতা সাব্বির ও তার সশস্ত্র ক্যাডারেরা অন্ধকারের মধ্যে গলি দিয়ে পালিয়ে যায়।

ককটেল হামলার খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো হাজির মাঠ এলাকা কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরে পুলিশ মাদক সম্রাট সাব্বিরের গোপন আস্তানায় ও বাসায় চিরুনি অভিযান চালায়। অভিযানে সাব্বিরের ঘর তল্লাশি করে প্রায় ৩ হাজার পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার করা হয়। মাদক ও ককটেল মজুদের অপরাধে ঘটনাস্থল থেকেই সাব্বিরের স্ত্রী অন্তরা খাতুন (২৫) কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সন্ত্রাসী হামলা ও পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, “সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির হামলার খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ চিহ্নিত মাদক কারবারি সাব্বির ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অপরাধীরা ককটেল ফুটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে সাব্বিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও হেরোইনসহ সাব্বিরের স্ত্রী অন্তরা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক মূলহোতা সাব্বিরসহ বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব আলম জানান, এ্ই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত অন্তরার নামে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। তার বাসায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবা, কেজির বেশি, হিরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102