মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, ইরানে হামলা বন্ধ এবং এলপি গ্যাস ও বাস ভাড়াসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেল গেট এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা শাখার সভাপতি সেলিম মাহমুদ এবং বাসদ ফতুল্লা থানার সদস্যসচিব এস এম কাদির। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ স্বাক্ষর করেছে, তা একটি একতরফা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প এবং সার্বভৌমত্ব চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রকে একক সুবিধা দিতে গিয়ে দেশীয় শিল্প ধ্বংস হবে এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাবে। আমরা অবিলম্বে এই অসম চুক্তি বাতিলের দাবি জানাই।” এছাড়া ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা এবং ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানান নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম সামান্য বাড়ার অজুহাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস মালিকরা বেপরোয়াভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ভাড়া ২ টাকা বাড়ার কথা থাকলেও মালিকরা জোর করে ৫ টাকা বেশি (৫৫ টাকা) আদায় করছে। জেলা প্রশাসন ও অংশীজনদের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই ভাড়া বৃদ্ধিকে ‘স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতি’ হিসেবে অভিহিত করেন তারা।
এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মার্চ ও এপ্রিল মাসেই এলপি গ্যাসের দাম ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে তার চেয়েও ১-২০০ টাকা বেশি দিয়ে সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে। এই চরম আর্থিক সংকটের সময় এলপি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।”
একইসাথে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতে বিদ্যুৎ খাতে চুরি ও লুটপাটের দায় এখন জনগণের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যেকোনো পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে।
সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, যদি সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী এসকল সিদ্ধান্ত ও চুক্তি বাতিল করা না হয়, তবে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে বাসদ আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।