বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার সদস্য সচিব তাহমিদ আনোয়ার এক বিবৃতিতে বলেন: নারায়ণগঞ্জের সাধারণ যাত্রী ও ছাত্রসমাজের যৌক্তিক দাবিকে পায়ে দলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহনের মালিকপক্ষ কর্তৃক জোরপূর্বক ৬০ টাকা ভাড়া আদায় চালু রাখার নজিরবিহীন ঔদ্ধত্য ও মাফিয়াতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৫ ঘণ্টার দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠকে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে যথেষ্ট ছাড় দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে ছাত্ররা হাফ পাস ৩৪ টাকা এবং সাধারণ জনগণের জন্য ৫৮ টাকা ভাড়ার প্রস্তাবে সম্মতি জানায়। বাস মালিকরা সাধারণের জন্য ৫৮ টাকায় রাজি হলেও, তাদের সিন্ডিকেটের চরম অহংকার ও গোঁড়ামির কারণে ছাত্রদের ৩৪ টাকার প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। তারা ৩৫ টাকা মানে ৩৫ টাকাই আদায়ের দাবিতে অনড় থাকে।
৫ ঘণ্টার সেই দীর্ঘ আলোচনাকে সম্পূর্ণ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই তারা তাদের সিন্ডিকেটের ক্ষমতা ব্যবহার করে পূর্বের অন্যায্য ও বর্ধিত ৬০ টাকা ভাড়া আদায় শুরু করেছে, যা তাদের চরম দুঃসাহস ও মাফিয়াতন্ত্রকে স্পষ্ট করে।
বাস মালিকদের এই আচরণ সরাসরি “গণপরিবহনের প্রকাশ্য মাফিয়াতন্ত্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক গুন্ডামি”। দীর্ঘ আলোচনার টেবিল ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতাকেও তারা কেবল নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার বানিয়েছে এবং প্রমাণ করেছে যে সাধারণ মানুষের ওপর তারা একচ্ছত্র ‘মগের মুল্লুক’ কায়েম রাখতে চায়।
এই ‘যাত্রী-শোষণ সিন্ডিকেট’ নারায়ণগঞ্জের গণপরিবহনকে নিজেদের ব্যক্তিগত রাজত্বে পরিণত করেছে, যেখানে তারা আইনের কোনো তোয়াক্কা করে না, শুধু চেনে জোরজুলুম আর পেশিশক্তি। এই চরম নৈরাজ্য আর কোনোভাবেই বরদাশ করা হবে না।
আমরা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করছি এই মুহূর্ত থেকে আমাদের চূড়ান্ত দাবি, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সাধারণ জনগণের জন্য ৫৫ টাকা এবং ছাত্রদের জন্য ৩০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। এর ১ টাকাও বেশি কেউ দেবে না। উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের এই মাফিয়াতান্ত্রিক সিন্ডিকেট অবিলম্বে ভেঙে এই ভাড়া কার্যকর না করা হলে নারায়ণগঞ্জের সচেতন ছাত্র ও সাধারণ জনতা রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই পরিবহন মাফিয়াদের অহংকার গুঁড়িয়ে দিতে বাধ্য হবে।