শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ‘দেশ, সমাজ ও আগামী প্রজন্ম: আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা মুফতি মুনির হোসেন কাসেমী বলেন, বিগত সময়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখনো বন্ধ হয়নি। এখনো সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। আমরা এমন পরিস্থিতি দেখতে চাই না। সরকারকে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, মাদক কারবারি যে দলেরই হোক না কেন, সে সমাজ ও মানবতার শত্রু। মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ শান্তি চায়। সরকারপ্রধান আন্তরিক হলেও তাঁর আশপাশে থাকা কিছু ব্যক্তি সন্ত্রাস ও মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুফতি মুনির হোসেন কাসেমী আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা যেন নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারেন এবং তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের আতঙ্ক কাজ না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। চাঁদাবাজদের হাত থেকে ব্যবসায়ীদের মুক্তি দিতে সরকারের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিবকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, খতিবকে তাঁরা দেশের অন্যতম বড় আলেম হিসেবে সম্মান করেন। তাঁর সঙ্গে কেউ যেন বেয়াদবি না করেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার আহ্বায়ক মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা ফেরদৌসুর রহমান, সদস্যসচিব মাওলানা মাসুদ আহমেদ ভূঁইয়া, মাওলানা তাজুল ইসলাম আব্বাস, যুগ্ম সদস্যসচিব মুফতি মাসুদুর রহমান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাওলানা সালাউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা তৈয়ব আল হোসাইন এবং ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার মাওলানা মিরাজ বিন হারুনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।
কর্মসূচিতে বক্তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ফ্যাসিবাদের বিচার কার্যকর এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সাধারণ মানুষের সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানান।