সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেড এলাকার রিমি গার্মেন্টসের সামনের ফুটপাতকে কেন্দ্র করে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করেছেন স্থানীয়ভাবে অভিযুক্ত সিদ্ধিরগঞ্জ ৫ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা।
সিদ্ধিরগঞ্জ ৫ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা ও হকারগণের দাবি, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা ব্যক্তিগত স্বার্থে হকার উচ্ছেদের সঙ্গে তারা জড়িত নন। বরং শ্রমিকদের নিরাপদ চলাচল, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমাতে মানবিক ও জনস্বার্থমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে এলাকার জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় হকারগণ জানান, রিমি গার্মেন্টসের মূল ফটকের উত্তর পাশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হকার দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। এতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া, ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়ানো এবং পথচারীদের ভোগান্তির অভিযোগ ছিল।
এ পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে ওই এলাকায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও বালু ফেলে পরিবেশ উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে হকারদের জন্য সুশৃঙ্খলভাবে বসার পরিবেশ তৈরির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে এলাকাবাসী জানান।
এলাকার স্থানীয় ৫ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা ও হকারগণ বলেন, হকারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা জানান, ওই এলাকায় ময়লা ফেলা হতো এবং দুর্গন্ধ ছড়ানো ঠেকাতে এলাকাবাসী বালু ফেলে জায়গাটি পরিষ্কার ও ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি ও শ্রমিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধেও টাকা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্টরা তা অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, স্থানীয় মানুষের পাশে থাকা, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে সহযোগিতা করে আসছেন। হকারদের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ আদায়ের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই।
এলাকাবাসী আরো বলেন , জনস্বার্থে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগকে চাঁদাবাজি হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।
এ বিষয়ে হকারগণ বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে চাঁদাবাজ বা অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করা বিভ্রান্তিকর। আমরা কাউকে চাঁদা দেয়না এটা অপপ্রচার।
সিদ্ধিরগঞ্জ ৫ নং ওয়ার্ডবাসীরমতে, হকারদের জীবিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গার্মেন্টস শ্রমিক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাও জরুরি। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি স্থায়ী ও মানবিক সমাধান করা প্রয়োজন।