শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেরে বাংলা সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ সোনারগাঁ উপজেলা এনসিপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক মোস্তফা খন্দকার সদস্য সচিব খন্দকার পনির গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিরতা কাটিয়ে শান্তির নগরী নারায়ণগঞ্জ: নেপথ্যে ডিসি রায়হান কবিরের দক্ষ নেতৃত্ব শ্রমিক হত্যার বিচার, ন্যায্য মজুরি ও শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের দাবিতে না’গঞ্জে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের বিক্ষোভ ১০ বছর পঙ্গু হয়ে থাকা অসহায় সালেহার পাশে এমপি-পুত্র খায়রুল ইসলাম সজিব ছাত্রীরাই ভবিষ্যতে দেশ নেতৃত্ব দেবে’: নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া হলো না, মেঘনায় ট্রলার ডুবে নিহত ১, একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ পিপিএম-সেবা পদক পাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের এসপি হাবিবুর রহমান অপহরণের পর ফের হুমকি: নিরাপত্তাহীনতায় লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ফেরত চেয়ে ডিসিকে ব্যবসায়ী নেতা সোহাগের আবেদন নৈতিক ও আদর্শিক বিকাশের মূল কারিগর শিক্ষক – মাওলানা আবদুুল জব্বার 

শ্রমিক হত্যার বিচার, ন্যায্য মজুরি ও শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের দাবিতে না’গঞ্জে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৩ 🪪
আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের গার্মেন্টসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত শ্রমিকদের জন্য আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং কর্মক্ষেত্রে ইআইএস চালুর দাবি
গার্মেন্টস খাতের মজুরি বোর্ড গঠন করে পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নির্ধারণ, সেঞ্চুরি এ্যাপারেলসসহ বিভিন্ন কারখানার ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের আইনগত পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ এবং শ্রম আইনের ১২৪(ক) ধারার অপব্যবহার বন্ধের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সেলিম মাহমুদ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব। আরও বক্তব্য রাখেন রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি হাসনাত কবির, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, রূপগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি সোহেল, গাবতলি-পুলিশ লাইন-টাগারপাড় শিল্পাঞ্চল শাখার সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, সেঞ্চুরি এ্যাপারেলস লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন,
আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা প্রাঙ্গণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় শ্রমিকসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ঝুঁকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নিহতদের পরিবারকে তাঁদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ, আহতদের পূর্ণাঙ্গ সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সুরক্ষার জন্য অবিলম্বে স্থায়ী এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (EIS) চালু করতে হবে।
দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই অবিলম্বে গার্মেন্টস খাতের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও জাতীয় পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
সেঞ্চুরি এ্যাপারেলসসহ বিভিন্ন কারখানায় বেআইনিভাবে ছাঁটাই, চাকরিচ্যুতি ও কারখানা বন্ধের কারণে অসংখ্য শ্রমিক তাঁদের মজুরি, ক্ষতিপূরণ, সার্ভিস বেনিফিটসহ আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ছাঁটাইকৃত ও চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের সকল আইনগত পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। কারখানা বন্ধ বা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের নামে মালিকপক্ষ যাতে শ্রমিকের পাওনা আত্মসাৎ করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১২৪(ক) ধারার অধীনে আপোষ-মীমাংসার সুযোগ থাকলেও কোনো শ্রমিককে তাঁর আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত করে বা প্রকৃত পাওনার তুলনায় কম অর্থ গ্রহণে বাধ্য করে আপোষ করানো চলবে না। শ্রমিকের সম্মতি, আইনগত অধিকার ও প্রকৃত পাওনা নিশ্চিত না করে আপোষ-মীমাংসার নামে শ্রমিকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা বন্ধ করতে হবে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অভিযোগ ব্যবস্থাতেও ১২৪(ক) ধারার অধীনে আপোষ-মীমাংসার বিষয়টি স্বীকৃত রয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকের অধিকার কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়—এগুলো তাঁর আইনগত ও মানবিক অধিকার। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শ্রমিকের জীবন, কর্মসংস্থান, মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শ্রমিকের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে—
১. প্রীতি গ্রুপের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি দিতে হবে।
২. নিহতদের পরিবারকে আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩. আহতদের পূর্ণাঙ্গ সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৪. কর্মক্ষেত্রে স্থায়ী EIS চালু করতে হবে।
৫. গার্মেন্টস খাতের মজুরি বোর্ড গঠন করে পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
৬. সেঞ্চুরি এ্যাপারেলসসহ বিভিন্ন কারখানার ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের সকল আইনগত পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
৭. শ্রম আইনের ১২৪(ক) ধারার অপব্যবহার করে শ্রমিক ঠকানো বন্ধ করতে হবে।
৮. শ্রমিকের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ ও শ্রমিকের স্বাধীন সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে।
৯. কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102