নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রাবাসে হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী ছাত্রসংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ৮টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা, মহানগর ও তোলারাম কলেজ শাখার নেতারা এসব দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৫ আগস্ট দুপুরে তোলারাম কলেজের পদ্মা মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তৎকালীন সময়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ওই দিন বিকেলেই কলেজ ছাত্রাবাসে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক মাহফুজ খান অভিযোগ করে বলেন, সংঘর্ষের জেরে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া ও সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিক হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে ছাত্রাবাসে হামলা চালায়। তারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও ভিন্নমতের ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের কক্ষে ঢুকে মোবাইল ফোন তল্লাশি এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এসময় রড, স্টাম্প ও কাঠের চেয়ার দিয়ে শিক্ষার্থীদের নৃশংসভাবে মারধর করা হয়।
এই হামলায় শরীফ আব্দুল্লাহ রাব্বি, দেওয়ান আমজাদ, রেদওয়ান, রিফাত ও ইমন হোসেনসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজন জাতীয় ছাত্রশক্তির কর্মী বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে একাধিক ল্যাপটপ, আইফোনসহ বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ট্যাব, মানিব্যাগ ও নগদ ২০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।
মাহফুজ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কেবল রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত একটি গুরুতর অপরাধ। মূল সংঘর্ষে ছাত্রশক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির নেতারা অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।