নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হাজী মোহাম্মদ শহীদ সরকার। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি এখন পিরোজপুরবাসীর আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হাজী শহীদ সরকার কেবল একজন রাজনীতিক নন, বরং বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক মানবিক ব্যক্তিত্ব। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের আগলে রেখেছেন। বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে মামলা, হামলা ও কারাবরণ করলেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। এই অকুতোভয় মানসিকতা তাকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে ‘দুঃসময়ের কান্ডারী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গেছে। অনেক নেতার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দখলের অভিযোগ উঠলেও হাজী শহীদ সরকারের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই। এই ‘ক্লিন ইমেজ’ বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কারণে পিরোজপুর ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিচ্ছে।
রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হাজী শহীদ সরকারের সরব উপস্থিতি রয়েছে। করোনাকালীন দুর্যোগ কিংবা সাম্প্রতিক বন্যায় তার মানবিক সহায়তা পিরোজপুরের মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি আধুনিক ও উন্নয়নকামী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে গণ্য হচ্ছেন।
নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে হাজী মোহাম্মদ শহীদ সরকার বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতা ভোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি সুযোগ। আমি দীর্ঘকাল পিরোজপুরের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। শহীদদের রক্তে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে পিরোজপুর ইউনিয়নকে একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শ মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য।”
পিরোজপুর ইউনিয়নের সচেতন ভোটাররা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনে একজন সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে হাজী শহীদ সরকারই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা তাকে নির্বাচনী দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে।
এখন দেখার বিষয়, তৃণমূলের এই ভালোবাসা ও বিপুল জনপ্রিয়তা তাকে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আসনে কতটা সফলভাবে আসীন করতে পারে।