“জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, দেশ বিক্রি হবে না”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে নারায়ণগঞ্জে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ ১ আগস্ট (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আহ্বায়ক প্রদীপ সরকার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, জেলা সদস্য রোকন, সংগঠক আহমেদ রবিন স্বপ্ন, ইফতি আহাম্মেদ জিহাদ ও ডালিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, “অসংখ্য মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। অথচ গত দুই বছরে দেশে রন্ধ্রে রন্ধ্রে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, কিন্তু বর্তমানে জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে বিদেশের কাছে দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্র চলছে।”
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “Agreement on Reciprocal Trade (ART)” নামে একটি অসম চুক্তি স্বাক্ষর করে। বক্তাদের মতে, এই চুক্তির ফলে আগামী ১৫ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে চড়া দামে ১,৫০০ কোটি ডলারের এলএনজি, প্রতি বছর ৭ লাখ টন গম এবং বিপুল পরিমাণ সয়াবিন ও তুলা আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে। এছাড়া বিনা দরপত্রে ১৪টি উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা দেশের অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলবে।
বক্তারা আরও সতর্ক করেন যে, এই চুক্তির ফলে মার্কিন কৃষিপণ্যের অবাধ আমদানিতে দেশীয় মৎস্য, পোলট্রি ও কৃষি খাত ধ্বংসের মুখে পড়বে। শুল্ক ছাড়ের কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়।
কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, এই অসম চুক্তি বাতিলের দাবিতে গত দুই মাস ধরে সারাদেশে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল ২ আগস্ট (রবিবার) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর গণস্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি পেশ করা হবে।
মোমবাতি প্রজ্জ্বলন শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলন আরও বেগবান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।