বন্ধ ঘোষিত সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড অবিলম্বে পুনরায় চালু এবং ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ। আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে শত শত শ্রমিকের অংশগ্রহণে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাদের ন্যায্য দাবির সপক্ষে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই মালিকপক্ষ রাতের অন্ধকারে কারখানার গেটে বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়। একে ‘অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যা দিয়ে বক্তারা বলেন, মালিকপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত শ্রম আইন ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন। এর ফলে শত শত শ্রমিক ও তাদের পরিবার আজ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে গত ৩০ জুলাই বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হলেও, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য আইনানুগ পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে কাজ হারিয়ে শ্রমিকরা দিশেহারা। অবিলম্বে কারখানা চালু না হলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
সংহতি জানিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ বলেন, “একদিকে সরকার শিল্পকারখানা সচল রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে একটি চলমান কারখানা এভাবে বন্ধ করে দেওয়া রহস্যজনক। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দমনে যদি পুলিশি হয়রানি বা মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়, তবে পুরো নারায়ণগঞ্জ স্তব্ধ করে দেওয়া হবে।”
**সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবি হলো:**
১. অবিলম্বে বন্ধ সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড পুনরায় চালু করা।
২. কারখানা চালু হলে বর্তমান শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বহাল নিশ্চিত করা।
৩. শ্রম আইন অনুযায়ী সকল আইনানুগ পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা।
৪. সকল শ্রমিককে নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক ও চাকরির প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা।
৫. শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও দমন-পীড়ন বন্ধ করা।
৬. কোনো শ্রমিককে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) না করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে বৈষম্য না করা।
গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ ও সহ-সভাপতি হাসনাত কবীরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি মালিকপক্ষ ও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামীতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে শ্রমিকদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। তারা দ্রুত কর্মসংস্থান ফিরে পেতে এবং পাওনা আদায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।