বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানে ‘গুণী সাংবাদিক সম্মাননা স্মারক’ পেলেন জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও আহত ১০ নারায়ণগঞ্জে বিপিএইচসিডিএ-এর সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও নবায়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সোনারগাঁয়ে কওমী মাদরাসা আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে  কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ  দেশব্যাপী সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে মহিলা পরিষদ’র মানববন্ধন  নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত: জনগণের সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নারায়ণগঞ্জ সদর ডাকঘরে ‘স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্ট’ বন্ধ: চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক, নেপথ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি মনোনীত হলেন এড. আবু আল ইউছুফ খান টিপু ক্যামেরার লেন্সে পৃথিবীর সৌন্দর্য বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস সকলকে শুভেচ্ছা : মাহমুদ হাসান কচি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাক ও আয়েশার

সময়ের দাবি নারায়ণগঞ্জে নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে, কাজী মনিরুজ্জামানের মতো নেতৃত্বের মূল্যায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩১১ 🪪

১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান বাংলাদেশের রাজনীতি, শিল্পখাত এবং বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য তাঁকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

স্বাধীনতার পর তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় শাসনব্যবস্থা (বাকশাল)-এর বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জাগো দল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পর্যায়ক্রমে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি
ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

শুধু রাজনীতিতেই নয়, ৮০র দশক থেকে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গেও তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবারও বিজিএমইএর সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন।

রাজনৈতিকভাবে তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান। তবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। তা সত্ত্বেও তিনি কোনো বিদ্রোহী অবস্থান গ্রহণ না করে দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান। বরং বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভূঁইয়ার পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে রূপগঞ্জ আসনটি বিএনপির বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

 

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ জেলার একজন সক্রিয় সংগ্রামী নেতা হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সরকারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং আন্দোলনের সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

নির্বাচনের পরও তিনি দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন।

তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা নারায়ণগঞ্জে নেতৃত্বের একটি দৃশ্যমান শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন। বিশেষ করে রূপগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই জেলার রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিভেচিত হয়ে এসেছে। অতীতে এখান থেকে বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা, এমনকি মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিত্বও উঠে এসেছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে কাজী মনিরুজ্জামানের মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবীদ, সফল শিল্পপতি এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক নেতাকে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়া এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে নেতৃত্বের সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

যদিও নারায়ণগঞ্জ জেলার আরও কয়েকজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দলীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বহিষ্কার হন। অপরদিকে কাজী মনিরুজ্জামান দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আনুগত্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি তাঁর অবিচল নিষ্ঠা তাঁকে এখনো নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে বিভেচিত করে।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র নেতৃত্বের সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় দলের প্রতি আনুগত্যশীল, ত্যাগী, প্রবীণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে সাংগঠনিক বা বিএনপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা হলে তা শুধু তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিই হবে না, বরং নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতেও সহায়ক হতে পারে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102