মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনকারী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই জননন্দিত ও মানবিক নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।
বিবৃতিতে রেজা রিপন বলেন, “শহীদ জিয়ার মহান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান রক্ষাকবচ। ১৯৭১ সালের সংকটময় মুহূর্তে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বিধা ও সিদ্ধান্তহীনতায় জাতি দিশেহারা ছিল, তখন ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা সারা জাতিকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভয়মন্ত্র জুগিয়েছিল। তাঁর সেই বীরোচিত আহ্বানেই সর্বস্তরের মানুষ হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল।”
পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর একদলীয় দুঃশাসনে যখন মানুষের নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল, তখন সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে আবির্ভূত হন। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। তিনি ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ ঘুচিয়ে বাংলাদেশকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন।”
বিগত আওয়ামী শাসনের সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “টানা ১৬ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদ জুলুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল। তারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে এক মাফিয়া অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিল। তবে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ঐক্যের মাধ্যমে গত ৫ই আগস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে এবং মানুষ পুনরায় মুক্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে।”
রেজা রিপন আরও বলেন, “শহীদ জিয়া এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক। তাঁকে শারীরিকভাবে সরিয়ে দিলেও জনগণের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা অসম্ভব। জাতীয় জীবনের সকল সংকট নিরসনে এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত সততা ও দেশপ্রেমকেই আমাদের পাথেয় করতে হবে।”
পরিশেষে তিনি জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে সকলকে ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।