নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকায় আবাসিক গভীর নলকূপের বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং পানির ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবিতে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে নগর ভবনে গিয়ে প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন ‘নারায়ণগঞ্জ গভীর নলকূপ ব্যবহারকারী আবাসিক সমবায় সমিতি’র (সাবেক ওয়াসা হটাও সংগ্রাম কমিটি) নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকার মাত্র ১৫ শতাংশ এলাকায় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যার ফলে ৮৫ শতাংশ নাগরিক পর্যাপ্ত পানি থেকে বঞ্চিত। অনেক এলাকায় ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত ও ব্যবহারের অনুপযোগী পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে বন্দর এলাকায় দূষিত পানি পানে ৪ জনের মৃত্যু ও অর্ধশত মানুষের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টিও স্মারকলিপিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা ওয়াসা বা বর্তমান সিটি কর্পোরেশন সুপেয় পানি সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষ নিজ খরচে ও নিজ জমিতে গভীর নলকূপ বা সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন করে পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন। এতে সরকারি কোনো বিনিয়োগ নেই, বরং নাগরিকরাই বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দিয়ে পানি ব্যবহার করছেন। এমতাবস্থায়, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আবাসিক নলকূপের ওপর বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও কর আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক’ ও ‘হয়রানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন তারা।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালে ‘ওয়াসা হটাও সংগ্রাম কমিটি’ কর্তৃক উচ্চ আদালতে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন (নং-১৩৫০৪) বর্তমানে চলমান রয়েছে। জনস্বার্থবিরোধী এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আবাসিক সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৪ দফা দাবি হলো:
১. আবাসিক নলকূপ বৈধকরণের নামে রেজিস্ট্রেশনে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২. ব্যক্তিগত খরচে স্থাপিত আবাসিক গভীর নলকূপ ব্যবহারকারীদের ওপর কোনো প্রকার কর ধার্য করা যাবে না।
৩. হোল্ডিং ট্যাক্সের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত ৩% পানির কর প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. ওয়াসার থেকে হস্তান্তরিত পানির ট্যাংক, সরবরাহ লাইন ও বিশুদ্ধকরণ প্রকল্পগুলো দ্রুত সংস্কার করে নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান প্রশাসক জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর অযৌক্তিক করের বোঝা চাপিয়ে দিলে নাগরিকরা আবারো আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গভীর নলকূপ ব্যবহারকারী আবাসিক সমবায় সমিতির উপদেষ্টা মনির হোসেন খান, আলহাজ্ব আব্দুল জাব্বার ভূইয়া, এস এম পারভেজ, সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, সহ সভাপতি আলহাজ্ব মো.শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব রুহুল আমিন খান, সহ সভাপতি সাজিম আহমেদ, সহ সভাপতি মাহমুদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন, কার্যকরী সদস্য মো.ইদ্রিস আলী।