নারায়ণগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যুবদল নেতা মাসুম বিল্লাহ ও ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাদির জিলানীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। শোকসন্তপ্ত পরিবার দুটির প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “এই দুইটা পরিবার যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আসলে টাকা বা অন্য কোনো সাহায্যের মাধ্যমে পরিশোধ করা সম্ভব নয়।”
শনিবার সকালে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিহত দুই নেতার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানকালে প্রশাসক আবেগাপ্লুত হয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “আজকে আমরা চেষ্টা করছি তাদের পাশে দাঁড়াতে, কারণ এই ছেলে দুইটার মধ্যে একজন আমার সাথে জেল খেটেছে, মামলা-টামলা খেয়েছে। সেই ছেলেগুলো আজকে দুঃসময় পেরিয়ে যখন এখানে আসার সুযোগ পেল, তখনই এক দুর্ঘটনায় তারা নিহত হলো। এই পরিবারগুলো অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত।”
সহায়তার বিস্তারিত উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত জানান, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে দুই পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকার দুটি চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দুই পরিবারের দুইজন সদস্যকে সিটি কর্পোরেশনে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “এই পরিবার দুটি তাদের যে উপার্জনক্ষম ও উদীয়মান সদস্যদের হারিয়েছে, যারা পরিবারের হাল ধরত—আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসের মাধ্যমে সেই অভাব কিছুটা হলেও তারা ফিলাপ করতে পারবে।”
এ সময় তিনি নিজের জন্য এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, “আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন এবং আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের জন্য দোয়া করবেন যাতে করে আমরা এভাবে সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারি।”
শহরে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রশাসক বলেন, “জনগণ যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনার কবলে আর না পড়ে, সেজন্য আমি ইতিপূর্বেই সিটি কর্পোরেশনের সকল গাড়ি চালকদের নির্দেশ দিয়েছি যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। নারায়ণগঞ্জ থেকে সকল ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিহত করার ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। আমরা সবসময় এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে আছি।”
সহায়তা প্রদানকালে সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নিহতের পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
—