নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি তোলারাম কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীন বরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক দাসত্ব’ ও ‘জুলাই আন্দোলনের শহীদদের অবমাননার’ অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী শাহ্ মুহাম্মদ ছগির হোসেন।
আজ শনিবার (০৯ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানান। শাহ্ মুহাম্মদ ছগির হোসেন সরকারি তোলারাম কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সরকারি তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি।
বিবৃতিতে ছগির হোসেন বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যে বৈষম্য দূর করার জন্য আমরা রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিলাম এবং আমাদের ৪ জন সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছে, সেই রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সরকারি তোলারাম কলেজে শুরু হয়েছে বৈষম্যের নতুন মহড়া। নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করার পবিত্র আয়োজনকে কলেজ প্রশাসন মূলত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের তোষামোদি করার উৎসবে পরিণত করেছে।”
কলেজ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “ব্যানারে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চেয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নাম কেন বেশি গুরুত্ব পেল? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো বিশেষ দলের জমিদারি নয়। সাবেক এমপি শামীম ওসমানের আমলে ক্যাম্পাস যেভাবে কুক্ষিগত ছিল, বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডেও তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এটি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার সাথে চরম বেঈমানি এবং অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
বিবৃতিতে তিনি তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন:
১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সর্বপ্রকার রাজনৈতিক দাসত্ব ও প্রভাবমুক্ত করতে হবে।
২. শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের প্রাধান্য না দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সম্মান দিতে হবে।
৩. বৈষম্যমুক্ত ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দলীয় দখলদারিত্ব বা একতরফা তোষামোদি সহ্য করা হবে না।
বিবৃতিতে ছগির হোসেন প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা স্রেফ দাসের পরিবর্তন চাই না, আমরা চেয়েছিলাম পূর্ণাঙ্গ মুক্তি। জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। যদি ক্যাম্পাসকে পুনরায় কোনো বিশেষ দলের আখড়ায় পরিণত করার চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরও বলেন, তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চায় একটি নিরাপদ ও রাজনীতিমুক্ত সুস্থ শিক্ষাঙ্গন, যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে, কোনো দলীয় আনুগত্যের নয়। আদায়ের সংগ্রাম চলবেই।