“সেবার ব্রতে চাকরি”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ (ফেব্রুয়ারি-২০২৬ সেশন) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাইকরণ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৮টা থেকে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
নিয়োগের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলা নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নেতৃত্বে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাই সম্পন্ন হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধি এআইজি (ইন্সপেকশন-২) জনাব নিশাত এ্যঞ্জেলা, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্ ও ট্রাফিক-উত্তর) জনাব আরাফাতুল ইসলাম এবং টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) জনাব ফৌজিয়া হাবিব খান।
এছাড়াও নিয়োগ বোর্ডের বিশেষ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব তাসমিন আক্তার পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জনাব তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও প্রসিকিউশন) জনাব মো: ইব্রাহিম হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব ইসরাত জাহান পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) জনাব মো: সোহেল রানা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) জনাব মো: হাসিনুজ্জামান। প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা তদারকি করেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার জনাব একেএম মেহেদী হাসান ও জনাব আফরোজা আক্তার পলি।
পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “পুলিশ কনস্টেবল পদে এই নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত। শুধুমাত্র যারা যোগ্য এবং প্রতিটি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখবে, তারাই নিয়োগ পাবে। এখানে কোনো প্রকার তদবির বা অর্থের লেনদেনের সুযোগ নেই।” তিনি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, “নিয়োগের নামে কোনো প্রতারক বা দালাল চক্রের খপ্পরে পড়বেন না। নিজের যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখুন।”
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম দিনে সফলভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘ফিজিক্যাল এনডুরেন্স টেস্ট’ (PET) বা শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।
পুলিশের এই আধুনিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন উপস্থিত পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। পুরো প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।