নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মহান বিপ্লবী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ১৯৩২ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্ব দেন তিনি। কোনভাবেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে মাথানত নয়, তার জন্য বীরত্বের সাথে আত্মাহুতি দেন । প্রীতিলতা ছিলেন শোষণের বিরুদ্ধে এক অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। যে ক্লাবের বাইরে লেখা ছিল ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ, প্রীতিলতা তাঁর সাহসী স্কোয়াড নিয়ে সেই বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক আস্তানায় আঘাত হেনেছিলেন। যখন তিনি ঔপনিবেশিক পুলিশের হাতে অবরুদ্ধ হন, তখন শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ না করে পটাসিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করে আত্মদানের পথ বেছে নেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছিল যে, দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির লড়াইয়ে নারীরা কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই।
নেতৃবৃন্দ বলেন, যে বৈষম্যহীন ও স্বাধীন স্বদেশের স্বপ্ন নিয়ে প্রীতিলতারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবাদী শোষণ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং নারীর ওপর সহিংসতা ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। প্রীতিলতার জীবন ও সংগ্রাম আমাদের শিক্ষা দেয় কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হয়।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণের বিরুদ্ধে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে প্রীতিলতার বিপ্লবী চেতনা আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা।