পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে মহানগর বিএনপি। সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “আগামী ৩০ ডিসেম্বরের কোনো কাল্পনিক তারিখেও দেশে কোনো পলাতক নেতা বা নেত্রী ফিরে আসবে না। তাই ওই পলাতকদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবেন না।”
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক ডিআইটি মসজিদ প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনের তীব্র সমালোচনা করে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র হরণ করেছিল। হত্যা, গুম আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তারা নারায়ণগঞ্জকে এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছিল। সে সময় নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল এবং বিরোধী দলের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণবিপ্লবের মুখে ফ্যাসিস্টদের সেই ক্ষমতার দম্ভ চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।”
দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা যারা এখনো দেশে আছেন এবং নিজেদের ভালো মানুষ দাবি করেন, তাদের পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টরা নানা অপকর্মের উসকানি দিচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, কোনো পলাতক ব্যক্তি এ দেশে আর ফিরে আসার সুযোগ নেই। তাই সাবধান হয়ে যান, পলাতকদের জন্য নিজের জীবন ধ্বংস করে জেল খাটবেন না এবং দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্তে লিপ্ত হবেন না।”
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির, জাকির হোসেন, আতাউর রহমান মুকুল, আনোয়ার হোসেন আনু, ফতেহ রেজা রিপন, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ এবং মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাসুদ ময়না।
এ সময় মহানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও মহিলা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে ডিআইটি মসজিদ চত্বর থেকে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি সুবিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।